দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রকল্প ব্যাহত হওয়ায় ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনা পিছিয়ে গেছে। এর ফলে ২০২৭ সালের উৎপাদন কোটা নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক), রাশিয়া ও অন্যান্য মিত্র দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস ২০২৭ সালের উৎপাদন কোটা নির্ধারণের আগে সব সদস্য দেশের উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া এ পর্যালোচনা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে এখন নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ এটি শেষ হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
ওপেক এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তবে গত জুনে জোটের সর্বশেষ বৈঠকে ২০২৭ সালের উৎপাদন ভিত্তি নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর সর্বোচ্চ টেকসই উৎপাদন সক্ষমতার মূল্যায়ন সম্পন্ন করার গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
২০২৫ সালের শেষ দিকে সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রোলিয়াম পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিগোলিয়ার অ্যান্ড ম্যাকনটন রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা ছাড়া ওপেক প্লাসের সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার হিসাব করছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব তিন দেশের সক্ষমতা মূল্যায়নের আওতায় নেই।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিগোলিয়ার অ্যান্ড ম্যাকনটন নভেম্বরের মাঝামাঝি ওপেকের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে নভেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠকে প্রতিবেদনটি বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ওপেক প্লাসের কয়েকটি সদস্য দেশে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। ফলে এসব দেশ ভবিষ্যতে কতটা তেল উৎপাদন করতে পারবে, তার হিসাব জটিল হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় কিছু দেশ এখনো পর্যালোচনার জন্য তথ্য জমা দেয়নি বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কোন কোন দেশ তথ্য দেয়নি, তা তারা জানায়নি।
উৎপাদন সক্ষমতার এই অনিশ্চয়তা ওপেক প্লাসের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার হিসাবের ওপর নির্ভর করতে পারে তারা ভবিষ্যতে কতটা তেল উৎপাদনের অনুমতি পাবে।
পর্যালোচনার লক্ষ্য হলো, প্রতিটি সদস্য দেশ টেকসইভাবে কতটা তেল উৎপাদন করতে পারে, তার একটি হালনাগাদ ও স্বাধীন মূল্যায়ন তৈরি করা। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পগুলো বিলম্বিত হওয়ায় সেই মূল্যায়নের ভিত্তিও পরিবর্তিত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যৎ উৎপাদন কোটায়। যেসব দেশের মূল্যায়িত সক্ষমতা কমে যাবে, তারা কম কোটার চাপের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো দেশগুলো বেশি বরাদ্দের দাবি জানাতে পারে।
উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওপেক প্লাসের কাছে বেশি কোটা দাবি করে আসা সংযুক্ত আরব আমিরাত গত মে মাসে জোট থেকে বেরিয়ে যায়।
ইরাকও বেশি কোটা দাবি করছে। একই সঙ্গে দেশটি ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে গত জুনে রয়টার্সকে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/